অরন্যঃ
কে এই মেয়েটি, কি ভাবছে সে একা বসে,
আমি কি তাকে চিনি, খুব চেনা মনে হচ্ছে;
সাদা শাড়ি, কপালে লাল টিপ, হাতে কাচের চুরি
সাগরের দিকে তাকিয়ে আছে,
একি কোন মানবী, নাকি সমুদ্রের পরী।
নন্দিনীঃ
কে এই অজানা ছেলেটি, এভাবে তাকাচ্ছে,
এত ভোরে, ভাবলাম কেউ থাকবেনা;
কি করছে, হাতে ক্যামেরা, মুখে খোচা খোচা দাড়ি
সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে তাকে কোথাও দেখেছি।
অরন্যঃ
আমার এই ক্যামেরায় কত মেয়ের ছবি,
কিন্তু কেন যেন এই মেয়েটিকে বড্ড আপন লাগছে;
কে সে?
যেয়ে জিজ্ঞেস করবো? যদি আমার অভদ্র মনে করে?
নন্দিনীঃ
ছেলেটি এভাবে কি দেখছে?
ভদ্রলোকইতো মনে হচ্ছে,
কি ভাবছে আমার দিকে তাকিয়ে?
ওমা এদিক আসছে বলে মনে হয়।
অরন্যঃ
আমিতো রোজ ভোরে আসি
এর আগে এমন কাউকে দেখিনিতো,
জীবনে এত মেয়ের ছবি তুলেছি,
এমন শিশিরশুভ্র ভোরে এমন সুনয়নার দেখা মেলেনি।
কেগো তুমি? মনের কি বাসনা নিয়ে তুমি আজ দেখা দিলে?
হ্বদয়ের কোন এক গভীর কোনায় কেমন যেন অনুভব হচ্ছে।
নন্দিনীঃ
জীবনে কত ছেলে মানুষ দেখেছি,
এমনটিতো এর আগে হয়নি;
জীবনের পথে ক্লান্ত হয়ে আমি,
আজ এসেছি নিজেকে নিয়ে যেতে হারিয়ে
বল হে অজানা মানব,
কে তুমি? বলতো তোমায় কোথায় দেখেছি?
কি নাম তোমার?
কেনইবা তোমায় দেখে সময় যেন থমকে গেছে।
অরন্যঃ
হে সমুদ্রমানবী,
নামটা বল, একবার শুধু বল,
কেন এত বেশী চেনা লাগছে তোমায়,
শুধু একটিবার তোমার হাতদুটো
ধরতে চাই, তোমার নামটি জানতে চাই।
নন্দিনীঃ
হে শুভ্রমানব,
কি করছো এমন ভোরে,
কেনইবা বাধা দিলে আমার একাকীত্তে?
অনুরোধ তোমায় আর কাছে এসোনা,
আমি যে হারিয়ে যাচ্ছি, তোমার মাঝে।
অরন্যঃ
হে কল্পনামানবী,
তুমি কি সেই, যাকে আমি ভাবতাম দিন রজনী?
তুমি কি সেই, যাকে আমি সপ্নে দেখি প্রতিরাত,
যাকে নিয়ে আমি ভাবি, আমার বুকে নিয়ে ঘুমাই যার হাত?
তুমি কি সেই, যাকে ভালবেসেছি কল্পনায়।
নন্দিনীঃ
হে কল্পনামানব,
তুমি কি সেই, যাকে নিয়ে ঘর বেধেছি কল্পনাতে,
তুমি কি সেই, যাকে ভালবেসেছি নিজের অজান্তে,
তুমি কি সেই, যাকে অনুভব করেছি হ্বদয়ের খুব গভীরে?
নন্দিনীঃ
হে সপ্নমানব,
আর আমায় সপ্নে বেধোনা, আমি যে কভু তোমার হবোনা।
আমি যে হারাতে চাই, সব কিছু ছেড়ে, সবাইকে ছেড়ে।
অনুরোধ তোমায়, আমায় এভাবে ভালবাসায় বেধোনা।
অরন্যঃ
হে অনুরাগিনী,
হ্বদয়স্পন্দন কি শুনতে পাও?
যদি বুঝে পার এই মনের কথা